আজ | শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯
Search

ঘুরে আসুন সাগর কন্যা কুয়াকাটায়

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৭:২৮ অপরাহ্ন, ২৫ জুন, ২০১৯

chahida-news-1561469320.jpg

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন দেশী-বিদেশী ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে পরিচিত একটি নাম। একে বাংলাদেশের সাগরকন্যা বলা হয়ে থাকে। ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের সর্ব দেিণ বঙ্গোপসাগর লাঘোয়া পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সাগরকন্যা কুয়াকাটার অবস্থান।

প্রকৃতির আপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন এ বেলাভূমির দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার। সৈকতের একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোলোভা দৃশ্য উপভোগ করার বিরল সুযোগ রয়েছে এখানে।

সাগরের গর্জনসহ বিশাল আকৃতির ঢেউয়ের জলরাশি যখন একের পর এক সৈকতে আছড়ে পরে, ঠিক তখনই প্রকৃতি প্রেমীদের সকল কান্তি ধুঁয়ে মুছে যায়।

কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আশে পাশে তাকালেই বেলাভূমিতে দেখা যায় লাল কাঁকড়ার নৃত্য ও জেলেদের জীবন জিবীকার যুদ্ধ। এছাড়া পরিচিত হওয়া যাবে স্থানীয় আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-কালচারের সাথে। দেখা যাবে তাদের সৃষ্ট ঐতিহাসিক সেই সুপেয় পানির কুয়া ও সংলগ্ন শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধবিহার। অসংখ্য দর্শনীয় স্পট অতি সহজেই আকৃষ্ট করবে পর্যটকদের।

যেভাবে যাবেন: সড়ক ও নৌপথ উভয়েই আসা যায় এখানে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে কুয়াকাটার দুরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার। বিকল্প পথে মাওয়া হয়ে এলে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে। এছাড়া খুলনা-যশোর থেকে বি. আর. টি. সি. বাস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে সৌদিয়া, সুগন্ধা, মেঘনা, সাকুরা, আবদুল্লাহ, এইচ আলী, ঈগল পরিবহনসহ দুরপাল্লার বাসগুলো সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

ব্যক্তিগত গাড়ি ও রেন্ট-এ কার যোগেও এখানে আসা যায়। আরাম দায়ক ভ্রমনের জন্য পূর্ণিমা রাতে ঢাকা থেকে নদী পথে বরিশাল, পটুয়াখালী অথবা আমতলী লঞ্চ যোগে এসেও কুয়াকাটায় আসতে পারবেন।

থাকার জায়গা: পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে সরকারী-বেসরকারী অত্যাধুনিক হোটেল ও মোটেল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্য হচ্ছে পর্যটন হলিডে হোমস, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, সড়ক ও জনপদ বিভাগের ডাক বাংলো এবং এলজিইডি’র বাংলো। এছাড়া কুয়াকাটা ইন্টারন্যাশনাল, স্কাইপ্যালেস, নীলাঞ্জনা, সী-ভিউ, গোল্ডেন প্যালেস, বীস ভেলী, গ্রেভার ইন, সাগর কন্যা, বনানী প্যালেস, হোটেল মোহনাসহ একাধিক এসি/ নন এসি রুমসহ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল রয়েছে। টেলিফোন কিংবা অনলাইনে এসব হোটেল মোটেলে অগ্রীম বুকিং দিতে পারেন।

খাবার জায়গা: পছন্দনীয় খাবারের জন্য খাবার ঘর-৫, আল-মদিনা, বরিশাল হোটেল, রাজধানী হোটেল, আপ্যায়ন হোটেল, খেপুপাড়া হোটেলসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব হোটেলে কম খরচে মানসম্মত খাবার পাওয়া যায়।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান-

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত : পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের একটি স্থানের নাম কুয়াকাটা। এটি বঙ্গোপসাগরের তীরে একটি স্বাস্থ্যকর ও মনোমুগ্ধকর স্থান। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত যাওয়ার অপরূপ দৃশ্যাবলোকন করা যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১৮ কি.মি. এবং প্রস্থ ৩.০৫ কি.মি.।

প্রাচীন কুয়া থেকে কুয়াকাটা : এক সময় কুয়াকাটায় বসবাসকারী রাখাইনরা তাদের পানীয় জলের প্রয়োজনে কুয়া বা কূপ খনন করে। স্মৃতি রয়েছে-এ কুয়া থেকেই এ এলাকার নামকরণ করা হয়েছে কুয়াকাটা। সে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সরকারি উদ্যোগে সমুদ্রে সৈকতের খুই নিকটে রাখাইন পল্লীতে কুয়া বা কূপ থেকে আজকে কুয়াকাটা নামকরণ করা হয়েছে।

গঙ্গামতির চর : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে আনুমানিক ১০ কি.মি. পূর্ব দিকে গঙ্গামতির চর নামে একটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এ চরের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলধার। রয়েছে প্রকৃতির কারুকাজ খচিত বেলাভূমি। এই চরে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় তাছাড়া ও এখানে একটা অদ্ভুত জিনিস দেখতে পাবেন।

লেমুর চর : কুয়াকাটা মূল ভূ-খণ্ডের পশ্চিম দিকে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার দূরে নয়নাভিরাম একটি স্থান লেবুর চর। এখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার একর বনাঞ্চল। লোক মুখে শোনা যায়, এই লেবুর চরে গেলে দেখা মেলে অসংখ্য মৌসুমি চিংড়ি রেনু শিকারিদের এবং বনের ভেতর অসংখ্য মৌমাছি।

রাসমেলা : রাসমেলা হিন্দু নর-নারীদের একটি বিশেষ ধর্মীয় উৎসব প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমার তিথিতে এ উৎসব হয়ে থাকে। এ উপলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গঙ্গাস্নান করতে সমবেত হন হাজার হাজার হিন্দু নর-নারী।

শুঁটকি পল্লী : কুয়াকাটা থেকে পশ্চিম দিকে ৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত কুয়াকাটা শুঁটকি পল্লী। সারা বছর তবে শীতকালে জেলেরা সাগর থেকে বিভিন্ন্ প্রজাতির ছোট বড় মাছ ধরে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করে থাকে। এ শুঁটকি মাছের চালান দেশ বিদেশে পাঠিয়ে এ এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা অর্জন করে কোটি কোটি টাকা।

ইকোপার্ক: কুয়াকাটা ইকোপার্ক বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত একটি ইকো পার্ক। ২০০৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫৬৬১ হেক্টর জমি নিয়ে এই উদ্যানটি গঠিত।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সড়ক পথে কুয়াকাটার দূরত্ব ২৭০কি.মি.। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলীর বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি আসতে পারেন কুয়াকাটায়। ভাড়া ৫০০-৮০০ টাকা। সময় লাগবে থেকে ৯ ঘণ্টা। ঢাকা সদর ঘাট থেকে নির্ধারিত রুটে লঞ্চ যোগে পটুয়াখালী আসতে হবে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চলে সোজা পৌঁছে যাবেন কুয়াকাটা। ঢাকা থেকে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে সদর ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে।

সেবা সমূহ: সৈকতের আশপাশে রয়েছে একাধিক ট্যুরিজম সেন্টার। দর্শনীয় স্থান গুলো ঘুরে দেখানের জন্য এসব সেন্টারগুলোর নিজেস্ব নৌ-যান রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে মোটর সাইকেল, ভ্যান ও ঘোড়ায় চরে ঘুরে দেখতে পারেন প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য।

নিরাপত্তা: এখানে কোন ধরনের সমস্যায় পরলে কুয়াকাটা পৌর সভা, ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন।

এদিকে কুয়াকাটা-কলাপাড়া মহা সড়কের আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর উপর নির্মাণাধীন শেখ কামাল, শেখ জামাল সেতুর দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতি ও সাগরের আপরূপ দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পরিবার পরিজনসহ আসা দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমে যাবে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ভ্রমণ শেষে সকলে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবেন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন