আজ | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০
Search

পাক তরুণের সঙ্গে অনলাইনে বিয়ে

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৪:২৫ অপরাহ্ন, ২২ মে, ২০২০

chahida-news-1590143118.png

বাংলাদেশি এক তরুণীর সঙ্গে পাকিস্তানি তরুণের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের বিয়ের দিনক্ষণও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে অবশ্য আটকে থাকেনি। দুই পরিবারের সম্মতিতে অনলাইনের মাধ্যমে এই প্রেমিকযুগল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কনে মুরসালিন সাবরিনা(২০) বাংলাদেশের জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা এবং বর মুহাম্মদ উমের (২৫) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শহরের বাসিন্দা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার কনের বাবা মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িতে মোবাইলযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

কনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেনের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’-এ ২০১৮ সাল থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমার’র মাধ্যমে পরিচয় হয় পাকিস্তানের মুলতান শহরের শাহরুখনে আলম কলোনীর যুবক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ উমের সঙ্গে। উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদের সবজি ও ফলের ব্যবসা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাদের প্রেমের সম্পর্ক উভয়পক্ষের পরিবার জানতে পারে। পরে উভয়পক্ষের অভিভাবকরা তাদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভিসার আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। মার্চ মাসেই উমের পরিবার বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায় তাদের বিয়ে।

তাদের প্রেমের এই সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়ত মতে অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমের বাবা বিলাল আহম্মেদ। তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তাব করেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে উভয় পরিবার গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে অনলাইনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিুজর রহমান।

কনে মুরসালিন সাবরিনার বাবা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে পাকিস্তানি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে মেনে নিতে চাইনি। কিন্তু পরে তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে খুব ভাল লেগেছে। তাদের পরিবার খুবই ভালো। তাই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বিয়ে সম্পন্ন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জামাই এবং তার পরিবার দেশে এসে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেয়েকে নিয়ে যাবেন।’ তিনি মেয়ে-জামাইয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন