আজ | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০
Search

আদালত ভবন থেকে লাফ দেয়ার চেষ্টা মজনুর

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৫:৫২ অপরাহ্ন, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

chahida-news-1600602724.png

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের সেই মামলায় আসামি মো. মজনুর বিরুদ্ধে বাদী ভুক্তভোগীর বাবা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রোববার ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম কামরুনাহার এ বাদী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আদালতের হাজতখানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ছয়তলা থেকে মজনুকে নিচে নামানোর সময় সে ছয়তলা থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছেন। এর আগে গত ২৬ আগস্ট কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি চার্জগঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। সেখানে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামি মজনুকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামি মজনুর পক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্তি আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম তাকে জেরা করেন। এদিকে এদিন সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামির কাঠগড়ায় মজনু অনেক অসংলঘ্ন আচরণ করেছেন মর্মে সূত্রে জানা গেছে। মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ ক্যামেরা ট্রায়ালে অনুষ্ঠিত হওয়ায় যা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মামলায় সোমবারও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য আছে।

ওই ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ জানান, মামলাটির বিচার ক্যামেরা ট্রায়ালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণকালীন কোনো তথ্যই প্রকাশ করা যাবে না।

মামলাটিতে গত ১৬ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় চলতি বছর ৯ জানুয়ারি আসামি মজনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর থেকে সে কারাগারেই আছেন।

চার্জশিটে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাস স্ট্যান্ড থেকে ফুটপাত দিয়ে ৪০/৫০ গজ সামনে আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে ভিকটিম (২১) পৌঁছালে আসামি মজনু পেছন থেকে গলা ধরে ফুটপাতে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে। ভুক্তভোগী চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে ভুক্তভোগী ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন মজনু ভুক্তভোগীকে অচেতন অবস্থায়ই ধর্ষণ করেন। সে একজন অভ্যাসগতভাবে ধর্ষণকারী। সে প্রতিবন্ধী, পাগল, ভ্রাম্যমাণ নারীর সম্মতি ব্যতীত এই অনৈতিক কাজ করে আসছে। ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় থাকে। তার স্থায়ী কোনো বসবাসের জায়গা নেই।

এর আগে র‌্যাব-১, উত্তরা এর সিপিসি-১ এর চৌকশ দল গত ৮ জানুয়ারি মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাস স্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে ভুক্তভোগীর ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। ঘটনার দিন আসামি ভিকটিমকে একা পেয়ে জোর করে ধরে ফুটপাতের পাশে বন-জঙ্গলের ভেতরে ফেলে ধর্ষণ করে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি মজনু গ্রেপ্তার হয়। এরও আগে গত ৬ জানুয়ারি ভিকটিমের অধ্যক্ষ বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী তার বড় মেয়ে (২১)। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। থাকত রোকেয়া হলে। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা করে। রাত ৭টার দিকে বাসটি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাস স্ট্যান্ডে থামে। সে বাস থেকে নেমে ফুটপাট দিয়ে ৪০/৫০ গজ শেওড়ার দিকে হেঁটে আর্মি গলফক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ বছর বয়সী যুবক গলা ধরে তাকে ফুটপাতের পাশে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার গলা চেপে ধরে। সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন