আজ | রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Search

যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

১০:১৫ অপরাহ্ন, ৮ আগস্ট, ২০১৯

chahida-news-1565280911.jpg

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া পুলিশে চাকরি শেষে বৃহস্পতিবার থেকে অবসরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারই ছিল তার শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার ৩২ বছরের চাকরি জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘৩২ বছরের চাকরি জীবন শেষে আজ অবসরে যাচ্ছি। এক হাজার ৬৮০ দিন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নগরবাসীকে সেবা করেছি। আজ আমার শেষ কর্মদিবস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আপনাদের প্রতি রইল চির কৃতজ্ঞা। আপনাদের ভালোবাসা ও সুস্থতা নিয়ে অবসরে যাচ্ছি। অবসরের পরও দেশের স্বার্থে সবসময় নিয়োজিত থাকব।’

সাংবাদিকদের কমিশনার বলেন, ‘একটি সময় ছিল পুলিশ ও সাংবাদিকতার মধ্যে অনেক দূরত্ব ছিল। কিন্তু আমার সাড়ে চার বছর ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কর্মজীবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে চমৎকার পেশাদারিত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। আমি ২০১৫ সালে কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা ৯২দিন আগুন সন্ত্রাস হয়েছিল। আমরা সাংবাদিক ও নগরবাসীকে সাথে নিয়ে সেই আগুন সন্ত্রাসকে দমন করেছি।’

হলি আর্টিজানের বিষয় উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘১ জুলাই ২০১৬ হলি আর্টিজান হামলায় দেশি-বিদেশি ২২ জন নাগরিক নিহত হন। স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা অন্যান্য অফিসার নিয়ে হলি আর্টিজানে গিয়ে হাজির হই। আমার পাশেই সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গেলেও প্রাণ হারায় আমরা প্রিয় দুই সহকর্মী। এই সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে দেশজুড়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্য তৈরি হয়। হলি আর্টিজান হামলার পর আমরা ছোট-বড় ৬০টি প্রিভেনটিভ জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালিয়েছি। তাতে অনেক জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং অনেককেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬ মাসের মধ্যে আমরা এই জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করেছি। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আস্থা আমরা স্বল্প সময়ে অর্জন করতে পেরেছি বলে দেশে বিনিয়োগ চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় জিরো টলারেন্স। আমরা ঢাকা মহানগরীরে মাদকবিরোধী অনেক অভিযান করেছি। মাদকের আখড়া বলে খ্যাত সব স্থান ভেঙে সামাজিক প্রতিষ্ঠান করে দিয়েছি।’

আছাদুজ্জামান বলেন, ‘দেশের যেকোনো আন্দোলনে কিছু কুচক্রীমহল আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও ধৈর্য দিয়ে সব কুচক্র মোকাবেলা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশের একার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব না। তাই জনসম্পৃক্ততা ও জনগণকে পুলিশিংয়ে সম্পৃক্ত করতে ডিএমপির ৫০টি থানাকে ৩০২টি বিটে ভাগ করে জনমত গড়ার কাজ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা যাতে পরিচয় গোপন রেখে ঢাকা শহরে বসবাস না করতে পারে সেজন্য আমরা ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে প্রায় ৭২ লাখ নাগরিকের তথ্য আমাদের সিআইএমএস সফটওয়ারে সংরক্ষিত আছে। নাগরিক তথ্য সংগ্রহের ফলে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার পর ঢাকা শহরে কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি।’

বিভিন্ন সফলতম উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘আমরা থানার সেবার মান বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ফরমের মাধ্যমে জিডি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা শতভাগ সফল না হলেও থানা পুলিশের মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বর্তমানে ট্রাফিক প্রসিকিউশনের জরিমানা পরিশোধ ডিজিটাল করা হয়েছে। ক্রেডিট/ ডেবিট কার্ডসহ যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে জরিমানা পরিশোধ করা যাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার বলেন, ‘ডিএমপির ৩৪ হাজার সদস্যকে নিয়ে জনবান্ধব, শিশু ও নারী বান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা ছিল আমার বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করেছি। আমার দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি জীবনে সবসময় চেষ্টা করেছি জনবান্ধব পুলিশিং করতে। মানুষকে ভালো সেবা ও সর্বোচ্চ আইনি সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছি। আমি অবসরে যাওয়াকালে বলব থানা যেন হয় মানুষের আস্থার ও নিরাপত্তার প্রতীক।’

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে আইন মানি। আমরা এদেশের নাগরিক। সুনাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেই আইন মানবেন ও অন্যকে আইন মানতে বলবেন। আমরা সকলে আইন মানলে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

দায়িত্ব পালনকালে সফল ও অসফল দিক সম্পর্কে সাংবাদিকের কমিশনার বলেন, ‘আমি দীর্ঘ এক হাজার ৬৮০ দিন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। যা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ইতিহাসে এটাই প্রথম দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এই সময়টার মধ্যে সফলতা বলতে টিম ডিএমপির ৩৪ হাজার সদস্যের পরিবারকে একটি ছাতার নিচে রেখে ঢাকা মহানগরীর আইন-শঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের সফলতা বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। আমরা সিআইএমএস ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে নগরীর একটি টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অসফলতা বলতে জনগণের প্রত্যশা ও প্রাপ্তি অনেকাংশে পূরণ করেছি কিন্তু শতভাগ পূরণ হয়নি। থানার সেবার মান অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আরও বৃদ্ধি করতে হবে। যানজটমুক্ত ঢাকা শহর বিনির্মাণে আমরা শতভাগ সফল হয়নি। আমাদের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না।’

  

আপনার মন্তব্য লিখুন