আজ | শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯
Search

গভীর রাতে ২ ছাত্র-ছাত্রী আটক

১:৩৬ অপরাহ্ন, ২৬ জুন, ২০১৯

chahida-news-1561534570.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এর একটি কক্ষ থেকে গভীর রাতে দুজন ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ১০মিনিটে তাদের উদঘাটন করে প্রক্টরিয়াল বডি।

আটককৃতরা হলেন- সাফায়াতে নূর সায়ারা নওশীন ও ইমরান হোসেন শাহরিয়ার। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ইমরান শাহরিয়ার স্যার এ এফ রহমানের হলের আবাসিক ও সায়ারা নওশীন রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে প্রক্টরিয়াল বডি জানতে পারেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ট্যুরিস্ট সোসাইটির কক্ষে দুজন শিক্ষার্থী অনেক রাত পর্যন্ত অবস্থান করছে। এমন সংবাদে তারা রাত ১টার সময় কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা বন্ধ ও লাইট বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ ১০ মিনিট দরজা ধাক্কানোর পর দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন ইমরান হোসেন শাহরিয়ার ও সাফায়াতে নূর সায়ারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কক্ষ ব্যবহার করতে পারবে। কোনো বিশেষ কর্মসূচি থাকলে অনুমতি সাপেক্ষে রাত ১১টা পর্যন্ত কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

গভীর রাত পর্যন্ত কক্ষের ভেতর কী করছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান হোসেন শাহরিয়া বলেন, তারা কক্ষের ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন।

হল থাকতে কেন কক্ষের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নওশীন সায়েরা তার বাড়ি গাজিপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে। ১০টার পরে আর হলে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সেখানে ছিলেন। যদিও নওশীন সায়ারা গ্রামের বাসা গাজীপুর থেকে এসেছে কি না সেটা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, কোনো নারী শিক্ষার্থী বাসা থেকে হলে ফিরতে বেশি রাত হয়ে গেলে হল প্রভোস্ট/সংশ্লিষ্ট ব্লকের শিক্ষক অথবা প্রক্টরিয়াল বডির সাহায্যে হলে প্রবেশ করতে পারে।

এদিকে প্রক্টরিয়াল বডি যখন আটককৃত দুজনের পরিচয় জানতে চান তখন তারা দুজনই ভুল পরিচয় দেন। ইমরান শাহরিয়ার নিজের নাম শাহরিয়ার কবির ও নওশীন সায়েরা নিজের নাম আতিকা বিনতে হোসেন বলে উল্লেখ করেন। পরে তাদের আসল পরিচয় উদঘাটন করতে সম্ভব হয় প্রক্টরিয়াল বডি।

উল্লেখ, সম্প্রতি সিআইডি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁসে জড়িত যে ৮৭জন শিক্ষার্থীর নামে চার্জশিট রয়েছে তার মধ্যে সাফায়াতে নূর সায়ারা নওশীনের নাম রয়েছে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।

দীর্ঘ রাত পর্যন্ত ট্যুরিস্ট সোসাইটির কক্ষে নারী শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষার্থী অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি আসিফ উল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট সোসাইটির চাবি কাদের কাছে থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্সিকিউটিভ বডির কাছে থাকে। মোট কতটি চাবি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০-২৫টি।

ঘটনা অবহিত করলে টিএসসির পরিচালক মহিউজ্জামান বলেন, ‘সংগঠনগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কক্ষ ব্যবহার করতে পারে। আমি ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। শিক্ষার্থী যদি এই রকম কাজ করে তাহলে তো কারও পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। প্রক্টরিয়াল বডির সাহায্যে তাদের উদ্ধার করে হলে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন