আজ | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০
Search

কী কী খাবারে মিলবে সোডিয়াম-পটাশিয়াম

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৯:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

chahida-news-1601046899.jpg

যে কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দিনে এক চা চামচের কম লবন খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কারণ লবনের মূল উপাদান সোডিয়ামের উর্ধ্বসীমা দিনে দুই গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেক কমে যায়। আবার এই সব অসুখের হাত থেকে মুক্তি পেতে দিনে কম করে ৩৫১০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম খাওয়া দরকার। কিন্তু সমস্যা হলো, সোডিয়াম যে কেবল লবনেই আছে এমন তো নয়, প্রায় সব পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারেই এটা আছে বেশ ভালো মাত্রায়। যেমন ধরা যাক, দুধ বা আলু। অন্য সাধারণ খাবারের সঙ্গে ৪–৫টি মাঝারি মাপের আলু বা ৫–৬ গ্লাস দুধ খেলে পটাশিয়ামের এই বিপুল চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব।

আবার সোডিয়াম কম খেতে চাইলে এত আলু বা দুধ খাওয়া একেবারে চলবে না। লবন বাদ দিয়ে অন্যান্য প্রায় সব খাবারের ক্ষেত্রেই এই একই কথা সত্যি। ফলে একটি উপাদানকে কমিয়ে আর একটিকে এতখানি বাড়ানো কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

‘ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত ‘ডায়াটারি ন্যাশনাল সার্ভে’-তে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকাতে এক হাজার জন মানুষের মধ্যে তিন জন এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছোতে পারছেন। ফ্রান্সে পারছেন হাজারে পাঁচ জন, মেক্সিকোতে দুই হাজারে তিন জন ও ইংল্যান্ডে হাজারে এক জন। অর্থাৎ এক ঢিলে দুপাখি মারতে পারছেন না অধিকাংশ মানুষই।

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রয়োজন মতো পটাশিয়াম পেতে গেলে নুন ও নোনতা খাবার খাওয়া কমিয়ে কম ক্যালোরির সুষম খাবার খেতে শুরু করুন। এতেই সব দিক বজায় থাকবে।

পটাশিয়ামের খাতিরে সোডিয়াম

সুষম খাবার খেলে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হয় না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তা করতে গিয়ে এক–আধটু বেশি সোডিয়াম শরীরে এসে যেতে পারে। তাতে তত ক্ষতি নেই। কারণ তাকে ঝরিয়ে ফেলতে দিনে ৪০–৪৫ মিনিট ঘাম ঝড়ানো ব্যায়াম করাই যথেষ্ট। আমাদের মতো গরমের দেশে এমনিও ঘামের কমতি নেই। ফলে কখনও আবার পরিস্থিতি এমন হয় যে আলাদা করে লবন খাওয়ার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যাঁরা নানা রকম ওষুধপত্র খেয়ে হাইপ্রেশারকে বশে রাখেন, তারা যদি প্রচুর ঘেমেনেয়ে যান, প্রেশার অনেক কমে যেতে পারে। তখন অতিরিক্ত লবন খেয়ে তাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে না নিয়ে এলে যথেষ্ট বিপদ। ডায়েরিয়া হলেও একই ব্যাপার। অতিরিক্ত লবন তখন প্রাণ বাঁচাতে কাজে আসে। কাজেই লবনের ক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের জন্য কোনও দুরকম নিয়ম নেই। কারণ সার্বিক সুস্থতার জন্য, বেশ কিছু অসুখবিসুখকে বশে রাখতে শরীরে এর পরিমাণ ঠিক রাখা একান্ত দরকার।

পটাশিয়ামের কাজ

রক্তচাপ বশে রাখতে ওষুধ খাওয়া ও অন্যান্য নিয়ম মানার পাশাপাশি পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে ভালো কাজ হয়।

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সরাসরি পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের কোনো ভূমিকা না পাওয়া গেলেও দেখা গেছে, যে সব খাবার খেলে কোলেস্টেরল কমে তাতে পটাশিয়াম বেশি থাকে। অর্থাৎ এই জাতীয় খাবার খেলে কোলেস্টেরলকে বশে রাখা সহজ হয়। হার্টও ভালো থাকে।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা অ্যারিদমিয়া নামের রোগ থাকলে চিকিৎসার পাশাপাশি পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান। হৃদপেশির কার্যকারিতা বেড়ে চটপট রোগের উন্নতি হবে।

হাড় ও পেশির স্বাস্থের জন্যও পর্যাপ্ত পটাশিয়াম খাওয়া দরকার। কারণ দেখা গেছে প্রক্রিয়াজাত খাবার, মাংস ইত্যাদি বেশি খেলে মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস নামে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার পরিণতিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নাইট্রোজেন তৈরি হয় শরীরে। মাংসপেশির ক্ষয়–ক্ষতির মূলেও এর হাত থাকে। পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে এই ব্যাপারটা অনেকটাই ঠেকানো যায়।

পটাশিয়ামের উৎস

সোডিয়াম-পটাশিয়ামের পর্যাপ্ত উৎস ডাবের পানি। এ ছাড়াও কিছুটা মেলে পালং শাক, আলু, মিষ্টি আলু, টমেটো, মাশরুম, স্কোয়াশ, বিট, মুলা, সয়াবিন, ক্যান্ড সাদা বিন, মুগ ডাল, দুধ, দই, নাশপাতি, কলা, আম, জাম, কমলা, পেঁপে, অ্যাভোক্যাডো, পেস্তা, কিসমিস, অ্যাপ্রিকট, প্রন, মাছ, চিকেন, রেড মিট ইত্যাদিতে। অন্য শাকসবজি–ফলেও আছে যথেষ্ট। কাজেই সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরে এর অভাব হবে না।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন