আজ | রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Search

‘ট্রাম্প- আমাদেরকে বাবার স্নেহবঞ্চিত করবেন না, প্লিজ’

অনলাইন ডেস্ক | ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

chahida-news-1508131389.jpg

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমরা আমাদের বাবাকে ছেড়ে থাকতে পারব না। খুব কষ্ট হচ্ছে। পড়া-শোনা কিংবা কাজ কোথাও মন বসাতে পারছি না- কথাগুলো বলতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক সিমরান শরীফ। সে আর তার বোন ১৮ বছর বয়সী সামিহা শরীফ আমেরিকার নাগরিক হলেও, তাদের বাবা বাবুল শরীফের এই দেশে বসবাসের স্থায়ী কাগজপত্র নেই। এমনকি তার দেশে ফেরত যাওয়ার সরকারি নির্দেশনা বা ডিপোর্টেশন অর্ডার জারি হয়েছিল সেই প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে।

তবে প্রেসিডেন্ট ওবামার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্বলিত নির্বাহী আদেশ ‘ডাকা’-ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাভাল- নামক নীতির আওতায় বাচ্চাদের ভবিষ্যত বিবেচনায় বাবুল শরীফ তার দেশে প্রর্ত্যাবর্তন ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন গত ৮ বছর। কিন্তু গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই চিন্তার রেখা বাড়ে পুরো পরিবারে। গেল জুন মাসে আমেরিকার ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে আটক করে। এখন যেকোনো সময় দেশে ফেরত পাঠানো হবে বাবুল শরীফকে। তার দুই মেয়ে সব আইনি প্রক্রিয়া সেরে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সবার সমস্বরে প্রতিবাদ করা ছাড়া এই পারিবারিক বিচ্যুতি ঠেকানোর কোনো পথ দেখছে না। সে কারণেই, জ্যাকসান হাইটসে সংবাদ সম্মেলনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

বাবুল শরীফের মতো এমন ১১টি পরিবার এখন একই ভাগ্য বরণের অপেক্ষা করছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ভয়, আতঙ্ক আর শঙ্কা নিয়ে স্বপ্নের আমেরিকায় দিন কাটাচ্ছে বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবার। আনডকুমেন্টেড বা অবৈধভাবে বসবাসের কারণে কারো বাবা, কারো মা-কে চলে যেতে হচ্ছে পরিবার ছেড়ে। এদেরই একজন বাবলু শরীফের দুই মেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানালেন- তাদের যেন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করা না হয়।

বাবলু শরীফ আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছিলেন ১৯৯২ সালে। গেলো ২৫ বছরে এই দেশে গড়ে তুলেছেন ঘর সংসার-নিজস্ব জগৎ। আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী কিশোরী দুই মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। বছর আটেক আগে বাবলু শরীফের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ আসলে তিনি আইনি লড়াইয়ে যান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ত্ব নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার পরিবারে আতঙ্ক। শেষমেশ গেল জুনে তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। এখন যেকোনো দিন তাকে প্লেনে পাঠিয়ে দেয়া হবে বাংলাদেশে। বাবাকে ছাড়া কেমন করে থাকবে- সে কথা বলতেই কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলো দুই মেয়ে সিমরান আর সামিহার।

'দেখুন আমি তো আর বাংলাদেশ বুঝবো না, ওখানে আমি অ্যাডজাস্ট করতে পারব না। আমরা হয়তো যেতে পারব তাকে দেখতে, কিন্তু প্রতি পদে পদে সীমানার বাধা থাকবে। আমরা এভাবে আমাদের বাবাকে দূরে রাখতে চাই না’-বলছিলেন বাবুল শরীফের বড় মেয়ে সামিহা।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাবলু শরীফের পরিবার। সঙ্গে আইনজীবী এবং কমিউনিটির ঘনিষ্ঠজনরা। দাবি জানালেন- দুই মেয়ের কথা ভেবে মানবিক কারণে বাবলু শরীফকে যেন এ দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয়।

বাবলু শরীফের স্ত্রী ফেরদৌসি এই সংবাদ সম্মেলনে জানান, অ্যারিজোনার ফ্লোরেন্স কারেকশন সেন্টারে, যেখানে বাবুলকে রাখা হয়েছে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য, এমন ১১টি বাংলাদেশি পরিবার আছে। শরীফ এখন দিন-রাত কাঁদে তার বাচ্চা দুটির জন্য। এটা এক অমানবিক পরিস্থিতি।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন পুলিশকে সহায়তা করা হবে না বলে এর আগে মেয়রসহ অন্যরা ঘোষণা দিলেও, যাদের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন অর্ডার আছে তাদের রক্ষা করতে পারছে না নগর প্রসাশন। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সীমান্ত নীতির মূল কথাই হচ্ছে, যাদের দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা আছে, তাদেরকে কোনো ছাড় দেবে না তার প্রসাশন। সেটার মাশুল গুণছে হাজারো পরিবার। বাবুল শরীফের পরিবার তেমনই একটি উদাহরণ।

এর বাইরে, বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সম্প্রতি ইমিগ্রেশন পুলিশের হানা বেড়েছে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন