আজ | শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
Search

ছাত্রীর স্ট্যাটাসে যবিপ্রবিতে সংঘর্ষ

১০:২৮ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

chahida-news-1569428919.jpg

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর স্ট্যাটাসে কমেন্ট করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন- পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাস্টার্সে ছাত্র আশিক খন্দকার, ফিজিক্যাল অ্যাডুকেশন ৩য় বর্ষের কামরুল হাসান, ইংরেজি ১ম বর্ষের জুয়েল রানা ও রুহুল কুদ্দুস এবং গণিতের মাস্টার্সের ছাত্র ইলিয়াস হোসেন। তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ইলিয়াস হোসেন জানান, যবিপ্রবির এক ছাত্রীর স্ট্যাটাসে অশ্লীল মন্তব্য করেন জুয়েল। এর প্রতিবাদ করলে জুয়েল ও তার বন্ধুরা তাকে মারপিট করেন। পরে ইলিয়াসের সহপাঠীরা জুয়েলসহ অন্যদের ধাওয়া করে।

আরও পড়ুন : রাজধানীতে র‍্যাবের গুলিতে ছিনতাইকারী নিহত

অপরদিকে জুয়েল ও অন্যরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত অন্তর দে শুভ ও ইসমে আজম শুভ বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা চারজন আহত হন।

শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগ কর্মী মারুফ হাসান ফেসবুকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী গণিত বিভাগের ছাত্র জুয়েল রানার অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট দিয়ে বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দেন।

এর জের ধরে বুধবার ছাত্রলীগ কর্মী অন্তর দে শুভ ও তার অনুসারীরা জুয়েল রানার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল হাসান শিহাব বাধা দিতে আসলে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তার ওপরও হামলা করে অন্তর দে শুভর অনুসারীরা।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন।

কিছুক্ষণ পর আবার শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন রকির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসানের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা ও পিইএসএস বিভাগের অন্তর দে শুভ, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের মারুফ হাসান, ইসমে আজম শুভ পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকারের ওপর হামলা চালায়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের অনুসারীরা শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন রকির ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অন্তর দে শুভ ও ইসমে আজম শুভ দু'জনেই বহিষ্কৃত ছিল। সম্প্রতি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে জানুয়ারিতে নতুন সেশনে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার আগেই তারা আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটাল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছে তারই ফলস্বরূপ কুরাজনীতির এক মহল বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যা কখনও হতে দেয়া যাবে না। আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন